একটি ইমেইল ঠিকানায় ব্যাংকের নিরাপত্তা সতর্কতা আসছে, আবার সেই ইনবক্সেই জমছে অনলাইন দোকানের ছাড়ের বিজ্ঞাপন। ফেসবুক, চাকরির ওয়েবসাইট, নানা অ্যাপ আর পুরোনো সাবস্ক্রিপশনও একই ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টের অবস্থা এমনই।
সব জায়গায় একই ইমেইল ব্যবহারের সুবিধা অস্বীকার করার উপায় নেই। আলাদা ঠিকানা মনে রাখতে হয় না, দরকারি বার্তা কোথায় খুঁজতে হবে তা জানা থাকে। কিন্তু একসময় এই সুবিধাই সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁস হলে কিংবা মূল ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গেলে।
তবে একই ইমেইল দিয়ে অনেক অ্যাকাউন্ট খোলা মানেই সেগুলো অনিরাপদ নয়। বিপদের মাত্রা নির্ভর করে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অভ্যাস, অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সেবার নিরাপত্তার ওপর। ইমেইলের গোপনীয়তাসংক্রান্ত ঝুঁকি বা Email privacy risk কমানোর জন্য তাই সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং কোন ঠিকানাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার নিরাপত্তা কতটা শক্তিশালী, সেখান থেকেই শুরু করা উচিত।
একটি ইমেইল ঠিকানা দিয়ে কত কিছু জানা সম্ভব?
ইমেইল ঠিকানা নিজে কোনো গোপন পাসওয়ার্ড নয়। চাকরির আবেদন করতে, কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বা অনলাইন সেবায় নিবন্ধনের জন্য ঠিকানাটি অন্যকে জানাতেই হয়। তবু একই ঠিকানা বহু জায়গায় ব্যবহার করার একটি অসুবিধা রয়েছে। কোনো ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁস হলে সেটির সঙ্গে অন্য সেবার তথ্য মিলিয়ে দেখা সম্ভব হতে পারে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত তথ্য অননুমোদিতভাবে দেখা, সংগ্রহ বা প্রকাশিত হওয়ার মতো নিরাপত্তা ঘটনাকে ডেটা ব্রিচ বলা হয়। এমন ঘটনায় শুধু ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হতে পারে। আবার নাম, ফোন নম্বর, ব্যবহারকারীর নাম কিংবা পাসওয়ার্ডসংক্রান্ত তথ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একটি ইমেইল যদি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে সেই ঠিকানার মাধ্যমে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। কোনো ব্যক্তি কোথায় নিবন্ধন করেছেন বা কী ধরনের সেবা ব্যবহার করেন, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এই তথ্য প্রতারণার কাজেও লাগতে পারে। ধরা যাক, কোনো অনলাইন দোকানে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হয়েছে। পরে সেই দোকানের পরিচয়ে একটি ভুয়া বার্তা পাঠানো হলো। ব্যবহারকারী সত্যিই দোকানটির গ্রাহক হলে বার্তাটি তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অবশ্য ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হলেই কেউ ইনবক্সে প্রবেশ করতে পারবে না। আর আলাদা ইমেইল ব্যবহার করলেও পুরোপুরি পরিচয় গোপন রাখা সম্ভব নয়। নাম, ফোন নম্বর বা অন্য তথ্য একই থাকলে সেগুলো দিয়েও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করা যায়।
আসল বিপদ অনেক সময় পাসওয়ার্ডে
একই ইমেইল ব্যবহারের চেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করা। কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপের পাসওয়ার্ড যদি আপনার প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করা হয়, তাহলে একটি সেবার তথ্য ফাঁস অন্য অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাকেও বিপদে ফেলতে পারে।
চুরি হওয়া ইমেইল বা ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ডের সমন্বয় অন্য সেবায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করার আক্রমণকে ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং (Credential Stuffing) বলা হয়। সব জায়গায় একই ইমেইল না থাকলেও এ ধরনের আক্রমণ সম্ভব, যদি আক্রমণকারী সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানতে পারে। ফলে ইমেইল আলাদা করলেও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।
এই জায়গায় একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। নতুন ইমেইল খোলার চেয়ে পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোতে আলাদা পাসওয়ার্ড নিশ্চিত করা বেশি জরুরি।
অনেকগুলো পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা যায়। এতে প্রতিটি সেবার জন্য দীর্ঘ ও স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড তৈরি এবং সংরক্ষণ করা সম্ভব। তবে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মূল অ্যাকাউন্টটিও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও উপলব্ধ অতিরিক্ত যাচাইকরণ দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
ইনবক্স হ্যাক হলে অন্য অ্যাকাউন্টের কী হবে?

একটি ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হওয়া আর সেই ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানো এক বিষয় নয়। অনেক অনলাইন সেবায় পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে নিবন্ধিত ইমেইলে পুনরুদ্ধারের লিংক পাঠানো হয়। কোনো কোনো সেবার যাচাইকরণ কোডও ইমেইলে আসে।
কেউ যদি মূল ইনবক্সে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এসব বার্তা দেখতে পাবে। সেখান থেকে অন্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও হতে পারে। সব সেবায় অবশ্য ইমেইল দিয়েই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা যায় না। কোথাও অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনবক্সের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার সঙ্গে যুক্ত অন্য অ্যাকাউন্টগুলো পরীক্ষা করতে হয়।
বিশেষ করে ব্যাংকিং, ক্লাউড স্টোরেজ এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত সেবার জন্য যে ইমেইল ব্যবহার করছেন, সেটির নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলার সুযোগ কম।
একই ইনবক্সে এত বার্তা রাখার দরকার কী?
ইমেইলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি সাধারণ অসুবিধা প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। সেটি হলো অপ্রয়োজনীয় বার্তার ভিড়। অনলাইন কেনাকাটার অফার, পুরোনো অ্যাপের বিজ্ঞপ্তি, নিউজলেটার কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের প্রচারমূলক ইমেইল একসঙ্গে আসতে থাকলে দরকারি বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
এগুলোর সবই স্প্যাম নয়। ব্যবহারকারী অনেক সময় নিজেই এ ধরনের বার্তা পাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সতর্কতা এবং অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি একই জায়গায় জমলে কোনো জরুরি বার্তা চোখ এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এর মধ্যে প্রতারণামূলক ইমেইলও আসতে পারে। ফিশিং (Phishing) প্রতারণায় পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা সেবার পরিচয় ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড, যাচাইকরণ কোড কিংবা অন্য সংবেদনশীল তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কোনো বার্তায় হয়তো বলা হলো, অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অথবা পেমেন্ট যাচাই করতে হবে।
এমন বার্তার লিংক থেকে লগইন না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট সরাসরি খুলে তথ্য যাচাই করা উচিত। সাধারণ নিবন্ধনের জন্য আলাদা ইমেইল ব্যবহার করলে অন্তত মূল ইনবক্সে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি কম জমবে। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ আলাদা রাখার এটিও একটি বাস্তব সুবিধা।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে কি আলাদা ইমেইল প্রয়োজন?
যাঁরা শুধু কয়েকটি প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য অনেকগুলো ইমেইল খোলার যুক্তি নেই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাজের সঙ্গে সাধারণ নিবন্ধনগুলো আলাদা রাখা বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। ব্যাংকিং, প্রধান অনলাইন অ্যাকাউন্ট, প্রয়োজনীয় নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ইমেইল ব্যবহার করা যায়। এই ঠিকানাটি সাধারণ নিউজলেটার বা অপরিচিত ওয়েবসাইটে না দেওয়াই ভালো।
অনলাইন কেনাকাটা, বিনামূল্যের অ্যাপ ও প্রচারমূলক সাবস্ক্রিপশনের জন্য অন্য একটি ঠিকানা রাখা যেতে পারে। নিয়মিত ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ইমেইলও আলাদা রাখা যুক্তিসংগত। এতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং কাজের বার্তা একসঙ্গে জমে না।
তবে অফিসের দেওয়া ইমেইল ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করাই ভালো। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ইমেইল সাধারণত তার নীতিমালা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকে। চাকরি ছাড়ার পর ওই ঠিকানায় প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন সেটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। নিজের চাকরির আবেদন বা দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত যোগাযোগের জন্য তাই নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঠিকানা ব্যবহার করা ভালো।
বেশি ইমেইল খুললেও ঝামেলা বাড়ে
এখানেও সীমা রাখা দরকার। প্রতিটি নতুন ইমেইলের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড, পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সেটিং পরিচালনা করতে হয়। দীর্ঘদিন কোনো ইনবক্স পরীক্ষা না করলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অদেখা থেকে যেতে পারে।
আবার সব ইমেইল একই স্মার্টফোনে খোলা থাকলে ফোনটির নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ডিভাইসের সুরক্ষা অতিক্রম করে প্রবেশ করতে পারলে একাধিক ইনবক্সের তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কয়টি ইমেইল প্রয়োজন, তার নির্দিষ্ট উত্তর নেই। যতগুলো নিয়মিত ব্যবহার ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, তার বেশি খোলার প্রয়োজনও নেই।
আলাদা ইমেইলের বদলে অ্যালিয়াস ব্যবহার করা যায়
সাধারণ নিবন্ধনের জন্য সব সময় নতুন ইনবক্স খোলার দরকার পড়ে না। ইমেইল অ্যালিয়াস (Email Alias) অনেক ক্ষেত্রে কাজে আসে। অ্যালিয়াস মূল ইমেইল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত একটি বিকল্প ঠিকানা। অনেক ক্ষেত্রে এতে পাঠানো বার্তা একই ইনবক্সে পৌঁছায়।
Gmail-এর ব্যক্তিগত ঠিকানা yourname@gmail.com হলে yourname+shopping@gmail.com বা yourname+news@gmail.com ব্যবহার করা যায়। এসব ঠিকানায় পাঠানো বার্তা মূল ইনবক্সেই আসবে।
এভাবে কেনাকাটা ও নিউজলেটারের বার্তা আলাদা করে সাজানো সম্ভব। তবে এই পদ্ধতিতে স্বাধীন অ্যাকাউন্ট তৈরি হয় না। মূল Gmail ঠিকানা অনুমান করাও সহজ, আর সব ওয়েবসাইট + চিহ্নযুক্ত ঠিকানা গ্রহণ করে না। ব্যক্তিগত @gmail.com ঠিকানায় ডট যোগ বা বাদ দিলেও নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি হয় না। প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডোমেইনে Google Workspace ব্যবহার করলে ডটের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
Microsoft-এর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও একাধিক অ্যালিয়াস রাখা যায়। সেগুলো একই অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। মূল ইমেইল প্রকাশ না করতে চাইলে Apple-এর Hide My Email-এর মতো সুবিধাও রয়েছে। সমর্থিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে Sign in with Apple ব্যবহার করার সময় বিকল্প ঠিকানা পাওয়া যেতে পারে। iCloud+ সাবস্ক্রিপশন থাকলে উপযুক্ত Apple ডিভাইস ও সফটওয়্যারে আরও বিকল্প ঠিকানা তৈরি করা যায়।
অ্যালিয়াসের অসুবিধা হলো, শেষ পর্যন্ত বার্তা যদি একই ইনবক্সে পৌঁছায়, তাহলে মূল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাধারণ নিবন্ধনের জন্য অ্যালিয়াস ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা আলাদা রাখতে চাইলে স্বাধীন ইমেইল অ্যাকাউন্ট বেশি উপযোগী।
মূল ইমেইলের নিরাপত্তা কোথা থেকে পরীক্ষা করবেন?

একাধিক ইমেইল ব্যবহারের পরিকল্পনা করার আগে গুরুত্বপূর্ণ ইনবক্সটির নিরাপত্তা দেখে নেওয়া উচিত। শুরুতে পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে থাকলে সেটি পরিবর্তন করুন।
এরপর দুই ধাপের যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন। পাসওয়ার্ডভিত্তিক লগইনের সময় এতে সাধারণত অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই প্রয়োজন হয়। সব যাচাইকরণ পদ্ধতি অবশ্য একই মাত্রার সুরক্ষা দেয় না।
এসএমএসে পাঠানো কোড মোবাইল নম্বরের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল বা অন্য প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অথেনটিকেটর অ্যাপ এই নির্দিষ্ট ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে। তবে ভুয়া ওয়েবসাইটে কোড লিখে দিলে সেটিও চুরি হতে পারে।
সমর্থিত সেবায় পাসকি বা উপযুক্ত নিরাপত্তা চাবি ফিশিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর হতে পারে। পাসকি সাধারণ দ্বিতীয় ধাপের কোড নয়; এটি পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
Google Account-এ দুই ধাপের যাচাইয়ের সেটিং দেখতে Security & sign-in বিভাগে গিয়ে How you sign in to Google অংশ খুলতে পারেন। সেখানে Turn on 2-Step Verification অপশন থাকলে নির্দেশনা অনুসরণ করে চালু করা যায়।
অ্যাকাউন্টের ধরন ও ডিভাইসভেদে অপশনের অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে। আগে থেকেই যাচাই চালু থাকলে ব্যবহৃত পদ্ধতিটি পরীক্ষা করুন। মোবাইল হারিয়ে গেলে কীভাবে অ্যাকাউন্টে ফিরবেন, সেটির প্রস্তুতিও থাকা দরকার। সেবাটি ব্যাকআপ কোড দিলে নিরাপদ স্থানে রাখুন। পুনরুদ্ধারের ইমেইল ও ফোন নম্বর সঠিক আছে কি না, দেখে নিন।
আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন
পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলো একসঙ্গে বদলাতে যাবেন না
বছরের পর বছর একই ইমেইল ব্যবহার করলে সেটির সঙ্গে যুক্ত সব অ্যাকাউন্টের কথা মনে রাখা কঠিন। পুরোনো ইনবক্সে নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ, পেমেন্ট রসিদ, স্বাগতবার্তা এবং পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের ইমেইল খুঁজলে অনেক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। ব্রাউজার বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত তথ্যও কাজে লাগবে।
তবে কোনো পুরোনো বার্তা পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট এখনও সক্রিয় রয়েছে, এমন নয়। প্রথমে আর্থিক সেবা, প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্লাউড স্টোরেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকা অ্যাকাউন্টগুলো দেখুন।
অনেক সেবার Settings, Profile, Personal information বা Security বিভাগ থেকে নিবন্ধিত ইমেইল পরিবর্তন করা যায়। কোথাও আবার অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই অথবা গ্রাহকসেবার সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত ইমেইল পরিবর্তনের নিয়মও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করুন। নতুন ঠিকানায় নিশ্চিতকরণ বার্তা এলে যাচাই করুন। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য পুরোনো ইমেইল থেকে গেছে কি না, সেটিও দেখা দরকার।
Google Account-এ Security & sign-in → How you sign in to Google → Recovery email থেকে পুনরুদ্ধারের ঠিকানা যোগ বা পরিবর্তন করা যায়। দুটি ইমেইল একে অপরের একমাত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে দুটির নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে হারানোর পরিস্থিতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সম্ভব হলে বিকল্প যাচাইকরণব্যবস্থা রাখুন।
আর পুরোনো ইমেইল সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করবেন না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাবস্ক্রিপশন, পেমেন্ট সেবা বা অন্য অ্যাকাউন্টের বার্তা এখনও সেখানে আসে কি না, কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করুন।
ডেটা ব্রিচের খবর পেলে কী করবেন?
কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর পেলেই নিজের ইমেইল ঠিকানা বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। আগে জানতে হবে ঠিক কোন তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Have I Been Pwned ওয়েবসাইটে ইমেইল ঠিকানা দিয়ে পরিচিত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সেটি পাওয়া গেছে কি না, পরীক্ষা করা যায়।
তবে সেখানে ফলাফল না পাওয়া মানে ইমেইল কখনো ফাঁস হয়নি, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব তথ্য ফাঁসের ঘটনা ওই সেবার তথ্যভান্ডারে থাকে না। শুধু ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হলে সন্দেহজনক বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সংশ্লিষ্ট সেবার নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি এবং অ্যাকাউন্টের অস্বাভাবিক কার্যক্রম পরীক্ষা করুন।
পাসওয়ার্ডও ফাঁস হলে আক্রান্ত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান। একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা থাকলে সেগুলোও পরিবর্তন করুন। মূল ইমেইল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাকাউন্টে এখনও প্রবেশ করতে পারলে নিরাপদ ডিভাইস থেকে পাসওয়ার্ড বদলান। অপরিচিত ডিভাইস ও সক্রিয় সেশন থেকে সাইন আউট করুন। পুনরুদ্ধারের ইমেইল, ফোন নম্বর এবং দুই ধাপের যাচাইয়ের সেটিং পরীক্ষা করুন। সন্দেহজনক ইমেইল ফরওয়ার্ডিং বা ফিল্টার চালু আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। আক্রমণকারী কখনো নির্দিষ্ট বার্তার অনুলিপি অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে রাখতে পারে।
Gmail-এ কম্পিউটার থেকে Settings → See all settings → Forwarding and POP/IMAP অথবা Forwarding বিভাগে গিয়ে ফরওয়ার্ডিংয়ের সেটিং পরীক্ষা করা যায়।
পাঠানো ও মুছে ফেলা বার্তায় অস্বাভাবিক কার্যক্রম থাকলে সেগুলোও দেখুন। এরপর ওই ইনবক্সের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করুন। মূল ইমেইলে প্রবেশ করতে না পারলে সেবাটির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারপদ্ধতি অনুসরণ করুন। অপরিচিত কাউকে পাসওয়ার্ড বা যাচাইকরণ কোড দেবেন না। আর্থিক তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
ইমেইল বদলানোর আগে নিজের অভ্যাসটি বদলান
অনেক দিন ধরে একটি ইমেইল ব্যবহার করে থাকলে সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট একবারে সরানোর দরকার নেই। প্রধান ইনবক্সের নিরাপত্তা ঠিক করা থেকেই শুরু করা যায়। প্রথমে দেখুন, সেটির পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। দুই ধাপের যাচাই চালু আছে কি না এবং প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্টে ফিরে আসার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন।
এরপর ঠিক করুন কোন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করা প্রয়োজন, আর কোনগুলোতে সাধারণ নিবন্ধনের জন্য রাখা আলাদা ঠিকানা দেওয়া যায়।
Email privacy risk কমানোর অর্থ ইমেইল ঠিকানা সম্পূর্ণ গোপন রাখা নয়। বরং কোনো ওয়েবসাইটে তথ্য ফাঁস হলে বা একটি অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেই সমস্যার প্রভাব যেন অন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে সহজে না ছড়ায়, সেটিই লক্ষ্য।
একাধিক ইমেইল সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দুর্বল পাসওয়ার্ড, অনিরাপদ ডিভাইস কিংবা ভুল পুনরুদ্ধারব্যবস্থার সমস্যা এতে দূর হবে না। তাই নতুন ঠিকানা খোলার আগে পুরোনোগুলোর হিসাব নিন। কোন ইমেইল কোথায় ব্যবহার করেছেন এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ হারালে কী করতে হবে, এই দুটি বিষয় পরিষ্কার থাকাই নিরাপদ ইমেইল ব্যবহারের ভালো শুরু।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
একই ইমেইল দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুললে কি সব অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে?
না। একই ইমেইল ব্যবহার করলেই অন্য সব অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায় না। তবে একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। আবার মূল ইনবক্সের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে গেলে সেখানে আসা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের লিংক বা যাচাইকরণ কোড ব্যবহার করে অন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে।
শুধু ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হলে কি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে?
শুধু ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হওয়ার কারণে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়। আগে জানতে হবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পাসওয়ার্ড বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্যও ফাঁস হয়েছে কি না। পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে কিংবা অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত নতুন পাসওয়ার্ড দিন।
কোনো ওয়েবসাইটে ইমেইল পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলে কী করবেন?
প্রথমে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিং পরীক্ষা করুন। ইমেইল পরিবর্তনের অপশন না পেলে সংশ্লিষ্ট সেবার আনুষ্ঠানিক সহায়তাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। পুরোনো ঠিকানাটি ব্যবহার করতে হলে সেটি সুরক্ষিত রাখুন এবং অ্যাকাউন্টে স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড ও উপলব্ধ অতিরিক্ত যাচাইকরণ চালু করুন।
পুরোনো ইমেইল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া কি নিরাপদ?
পুরোনো ইমেইল বন্ধ করার আগে নিশ্চিত হতে হবে, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের লগইন বা পুনরুদ্ধারের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাবস্ক্রিপশন কিংবা অন্য প্রয়োজনীয় সেবার যোগাযোগ নতুন ঠিকানায় সরিয়ে নিন। সব পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে কি না, যাচাই না করে পুরোনো ইনবক্স বন্ধ করা উচিত নয়।
পাসওয়ার্ড ছাড়া পাসকি ব্যবহার করলে কি ইমেইল হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না?
পাসকি ফিশিং প্রতিরোধে কার্যকর এবং সমর্থিত সেবায় পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে পাসকি ব্যবহার করলেই ইমেইল অ্যাকাউন্টের সব নিরাপত্তাঝুঁকি দূর হয় না। ডিভাইসের নিরাপত্তা, অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা এবং সংযুক্ত অন্যান্য প্রবেশপদ্ধতিও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

