লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করলেই কি ট্র্যাকিং বন্ধ হয়?

সর্বাধিক আলোচিত

ফোনে লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করার পর স্বস্তি পাওয়া স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, এবার আর গুগল আপনার অবস্থানের কোনো ইতিহাস রাখছে না। সমস্যাটা হলো, এই একটি সেটিং পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে না।

গুগল এখন লোকেশন হিস্ট্রিকে মূলত টাইমলাইন নামে দেখায়। এটি বন্ধ করলে টাইমলাইনে নতুন অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য জমা হওয়া বন্ধ হয়। কিন্তু লোকেশন ট্র্যাকিং প্রাইভেসি এখানেই শেষ নয়। গুগল অ্যাকাউন্টের অন্য কার্যকলাপের সেটিং, অ্যাপের অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি, ব্রাউজারের অনুমতি এবং আইপি ঠিকানার মাধ্যমে অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য অন্যভাবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই “ট্র্যাকিং পুরোপুরি বন্ধ করব কীভাবে?”—এই প্রশ্নের চেয়ে “কোন সেবা আমার অবস্থান সম্পর্কে কতটুকু তথ্য পাচ্ছে?”—এই প্রশ্নটি বেশি কাজে দেয়।

টাইমলাইন বন্ধ করলে আসলে কী বন্ধ হয়?

গুগল ম্যাপস টাইমলাইন চালু থাকলে আপনি কোথায় গেছেন এবং কোন পথে গেছেন, সেই ধরনের অবস্থানের ইতিহাস রাখা যেতে পারে। এটি স্বাভাবিকভাবে বন্ধ থাকে। ব্যবহারকারী চালু করলে তবেই এটি কাজ করে। চালু থাকলে উপযুক্তভাবে গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা ডিভাইসে অবস্থানের তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে। চাইলে টাইমলাইনের এনক্রিপ্ট করা ব্যাকআপও রাখা যায়।

টাইমলাইন বন্ধ করলে নতুন টাইমলাইন তথ্য জমা হওয়া বন্ধ হয়। তবে আগে যা সংরক্ষিত হয়েছে, সেটি নিজে থেকে মুছে যায় না।

গুগল ম্যাপসে সাধারণত যেতে পারেন:

প্রোফাইল ছবি → আপনার টাইমলাইন

সেখান থেকে আগের টাইমলাইন তথ্য দেখা বা মুছে ফেলার ব্যবস্থা থাকে।

গুগল অ্যাকাউন্টের ডেটা ও গোপনীয়তা → ইতিহাসের সেটিং → টাইমলাইন অংশ থেকেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অ্যাপের সংস্করণ বা ফোনভেদে মেনুর নাম কিংবা অবস্থান কিছুটা বদলাতে পারে। এখানে যে ভুলটি সহজে হয়, তা হলো টাইমলাইনকে ফোনের মূল অবস্থান সেটিংয়ের সঙ্গে এক মনে করা। আসলে দুটো আলাদা।

আরও পড়ুন: গুগল অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি চেকআপ: কোন সেটিংস আগে বদলাবেন

গুগল অ্যাকাউন্টের অন্য কার্যকলাপেও অবস্থানের তথ্য থাকতে পারে

গুগল অ্যাকাউন্টের অন্য কার্যকলাপেও অবস্থানের তথ্য থাকতে পারে

টাইমলাইন বন্ধ থাকার পরও গুগল সার্চ, ম্যাপস বা অন্য গুগল সেবা ব্যবহারের সঙ্গে অবস্থান-সংক্রান্ত কিছু তথ্য অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপে থাকতে পারে।

গুগলের অ্যাকাউন্ট সেটিং এখন সব ব্যবহারকারীর কাছে এক রকম নাও দেখা যেতে পারে। কিছু অ্যাকাউন্টে সার্চ সার্ভিসেস হিস্ট্রি দেখা যায়, আবার কোথাও সার্চ ও ম্যাপস-সংক্রান্ত ইতিহাস এখনো ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি-র অধীনে থাকতে পারে।

এগুলো দেখতে:

গুগল অ্যাকাউন্ট → ডেটা ও গোপনীয়তা → ইতিহাসের সেটিং

এখানে আরেকটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। কোনো ইতিহাসের সেটিং বন্ধ করা মানেই আগের সব কার্যকলাপ মুছে ফেলা নয়।

নতুন তথ্য আর রাখতে না চাইলে সেটিং বন্ধ করতে পারেন। আগের কার্যকলাপও সরাতে চাইলে মাই অ্যাক্টিভিটি বা সংশ্লিষ্ট ইতিহাস নিয়ন্ত্রণের অংশ থেকে মুছে দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ করুন এবং বন্ধ করে কার্যকলাপ মুছুন—এমন দুটি আলাদা বিকল্প দেখা যেতে পারে। গোপনীয়তার সেটিং পরিষ্কার করার সময় তাই ভবিষ্যতের তথ্য আর পুরোনো তথ্যকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখাই ভালো।

ফোনের কোন অ্যাপ কতটুকু অবস্থান জানতে পারছে?

বাস্তবে বেশির ভাগ মানুষের জন্য এখানেই বেশি কাজ করার আছে।

অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত:

সেটিংস → লোকেশন → অ্যাপ লোকেশন পারমিশনস

এখানে কোন অ্যাপ অবস্থান ব্যবহার করতে পারবে এবং কখন ব্যবহার করতে পারবে, তা দেখা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের সংস্করণ ও অ্যাপভেদে এমন বিকল্প থাকতে পারে:

  • সব সময় অনুমতি দিন
  • অ্যাপ ব্যবহারের সময় অনুমতি দিন
  • প্রতিবার জিজ্ঞেস করুন
  • অনুমতি দেবেন না

সবচেয়ে আগে নজর দেওয়া যায় সব সময় অনুমতি দিন পাওয়া অ্যাপগুলোর দিকে।

একটি নেভিগেশন অ্যাপের পেছনে চলমান অবস্থায় অবস্থানের তথ্য দরকার হতে পারে। কিন্তু কেনাকাটা, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো সাধারণ অ্যাপকে সব সময় আপনার অবস্থান জানার অনুমতি কেন দেওয়া আছে, সেটি অন্তত একবার দেখা উচিত। অনুমতি কমানোর পর অ্যাপের দরকারি সুবিধা ঠিকমতো কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন। কাজ করলে বাড়তি অনুমতি রেখে দেওয়ার বিশেষ কারণ থাকে না।

সুনির্দিষ্ট অবস্থান সব অ্যাপের দরকার হয় না

সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরও সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যবহার করুন বিকল্পটি বন্ধ করা যায়। তখন অ্যাপটি সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বদলে আনুমানিক এলাকা পায়।

আবহাওয়ার তথ্য দেখার জন্য সাধারণ এলাকা যথেষ্ট হতে পারে। আবার ধাপে ধাপে পথনির্দেশনার জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থান দরকার হতে পারে। সব অ্যাপের জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করার দরকার নেই। অ্যাপটি কী কাজ করছে, সেটিই ভালো মাপকাঠি।

ফোনের লোকেশন পুরোপুরি বন্ধ করলে কী হয়?

অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত:

সেটিংস → লোকেশন → লোকেশন ব্যবহার করুন

এটি বন্ধ করলে অ্যাপ ও বিভিন্ন সেবা ফোনের ডিভাইস-নির্ভর অবস্থান ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে ম্যাপসের পথনির্দেশনা, গুগল ম্যাপস লোকেশন শেয়ারিং, হারানো ডিভাইস খোঁজা বা অবস্থাননির্ভর কিছু সুবিধা সীমিত হতে পারে।

অর্থাৎ গোপনীয়তা বাড়ানোর জন্য পুরো লোকেশন বন্ধ করা সম্ভব, কিন্তু সেটি সব ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সমাধান নয়। আর লোকেশন বন্ধ করলেও আইপি ঠিকানা থেকে সাধারণ ভৌগোলিক এলাকা অনুমান করা সম্ভব। এটি জিপিএসের মতো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নয়, আবার একেবারেই অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য নয়—এমনও নয়।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। “জিপিএস বন্ধ” এবং “অনলাইনে আমার অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণাই পাওয়া যাবে না”—দুটি এক কথা নয়।

ব্রাউজারের লোকেশন অনুমতিও দেখেছেন?

ব্রাউজারের লোকেশন অনুমতিও দেখেছেন?

অনেকেই ফোনের অ্যাপের অনুমতি দেখেন, কিন্তু ব্রাউজারের ভেতরে আগে কোনো ওয়েবসাইটকে অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন কি না মনে থাকে না।

অ্যান্ড্রয়েডের ক্রোমে সাধারণত:

ক্রোম → সেটিংস → সাইট সেটিংস → লোকেশন

এখানে কোন সাইট অবস্থান চাইতে পারবে বা আগে অনুমতি পেয়েছে, তা দেখা যায়।

অ্যান্ড্রয়েড সেটিংসে ক্রোমের নিজের অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি আর ক্রোমের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের অনুমতি—এই দুটোও আলাদা স্তর। গোপনীয়তার সেটিং পরীক্ষা করার সময় তাই শুধু ম্যাপস বা গুগল অ্যাকাউন্ট দেখে থেমে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়।

টাইমলাইন বন্ধ করলেও লোকেশন শেয়ারিং চালু থাকতে পারে

এটি সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।

গুগল ম্যাপসের লোকেশন শেয়ারিং টাইমলাইন থেকে আলাদা। ফলে টাইমলাইন বন্ধ করলেও আগে কারও সঙ্গে চালু করা তাৎক্ষণিক অবস্থান ভাগাভাগি চলতে পারে।

গুগল ম্যাপসে:

প্রোফাইল ছবি → লোকেশন শেয়ারিং

খুলে দেখে নিন এখন কারও সঙ্গে অবস্থান ভাগ করা হচ্ছে কি না। দরকার না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইল থেকে বন্ধ করুন নির্বাচন করা যায়। বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু বা কোনো ভ্রমণের সময় সাময়িকভাবে লোকেশন শেয়ারিং চালু করে পরে ভুলে গেলে এই অংশটি দেখা দরকার।

লোকেশন অ্যাকিউরেসি আর অ্যাপের অনুমতি এক বিষয় নয়

অ্যান্ড্রয়েডের লোকেশন অ্যাকিউরেসি জিপিএসের পাশাপাশি ওয়াই-ফাই, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিভাইসের বিভিন্ন সেন্সরের সংকেত ব্যবহার করে অবস্থান নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা পরবর্তী সংস্করণে এটি সাধারণত:

সেটিংস → লোকেশন → লোকেশন সার্ভিসেস → লোকেশন অ্যাকিউরেসি

অংশে পাওয়া যায়।

একই জায়গায় ওয়াই-ফাই স্ক্যানিং এবং ব্লুটুথ স্ক্যানিং-এর আলাদা বিকল্পও থাকতে পারে। তবে অ্যান্ড্রয়েডে মেনুর পথ সব ফোনে একই নয়। স্যামসাং, শাওমি, পিক্সেল, ওয়ানপ্লাস বা অন্য নির্মাতার ফোনে একই সেটিং অন্য জায়গায় থাকতে পারে। কোনো নির্দেশনার পথ হুবহু না মিললে সেটিংসের অনুসন্ধান ব্যবহার করাই সহজ।

ছবি ও জরুরি পরিষেবা নিয়ে দুটো বিষয় মনে রাখুন

লোকেশন-সংক্রান্ত গোপনীয়তা পরীক্ষা করার সময় আরও দুটি বিষয় জানা কাজে আসে। প্রথমটি ছবি। ক্যামেরা অ্যাপ ছবি তোলার সময় অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। তবে গুগল ফটোস দিয়ে ছবি ভাগ করলেই প্রতিবার সেই অবস্থান অন্য ব্যক্তির কাছে চলে যায় না। ভাগ করার সেটিং এবং ছবির সঙ্গে অবস্থানের তথ্য কীভাবে যুক্ত হয়েছে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

গুগল ফটোস থেকে মূল ফাইল নামিয়ে ই-মেইল বা অন্য মাধ্যমে পাঠালে সেই ফাইলের সঙ্গে ডিভাইসে সংরক্ষিত অবস্থানের তথ্যও থাকতে পারে।

দ্বিতীয়টি জরুরি পরিষেবা। সমর্থিত ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও দেশে ইমার্জেন্সি লোকেশন সার্ভিস জরুরি নম্বরে কল বা বার্তা পাঠানোর সময় অবস্থান পাঠাতে পারে। এটি সাধারণ অ্যাপ ট্র্যাকিং বা বিজ্ঞাপনের জন্য অবস্থান ব্যবহারের মতো বিষয় নয়।

এই দুই ব্যতিক্রমের জন্য আলাদা করে সব লোকেশন সেবা বন্ধ করার দরকার নেই। তবে “লোকেশন বন্ধ মানেই কোথাও কোনো অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার হবে না”—এই ধারণাটিও ঠিক নয়।

আইফোন ব্যবহার করলে কোথায় দেখবেন?

আইফোনে মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে:

সেটিংস → প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি → লোকেশন সার্ভিসেস

এখানে প্রতিটি অ্যাপের অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি আলাদাভাবে দেখা যায়। কোনো অ্যাপের সুনির্দিষ্ট অবস্থান দরকার না হলে প্রিসাইজ লোকেশন বন্ধ করে আনুমানিক অবস্থান দেওয়া যায়।

গুগল ম্যাপস বা অন্য গুগল অ্যাপ ব্যবহার করলেও আইফোনের এই ডিভাইস-স্তরের লোকেশন অনুমতি কার্যকর থাকে। অ্যান্ড্রয়েডের মতো এখানেও মূল প্রশ্ন একই: অ্যাপটি যে পরিমাণ অবস্থান-তথ্য চাইছে, তার কাজের জন্য সত্যিই কি সেই পরিমাণ তথ্য দরকার?

প্রথমে এই তিনটি জায়গা দেখলেই অনেকটা পরিষ্কার হবে

সব সেটিং একসঙ্গে বদলানোর দরকার নেই।

প্রথমে গুগল ম্যাপসের টাইমলাইন খুলুন। এটি চালু আছে কি না এবং আগের তথ্য রাখতে চান কি না ঠিক করুন।

তারপর গুগল অ্যাকাউন্টের হিস্ট্রি সেটিংস দেখুন। সার্চ সার্ভিসেস হিস্ট্রি, ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি বা আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা অন্য নিয়ন্ত্রণগুলো পর্যালোচনা করুন। এরপর ফোনের অ্যাপ লোকেশন পারমিশনস খুলে বিশেষ করে সব সময় অনুমতি দিন পাওয়া অ্যাপগুলো দেখুন।

এই তিনটি কাজের পর ব্রাউজারের অনুমতি এবং গুগল ম্যাপসের লোকেশন শেয়ারিং দেখলে বেশির ভাগ মানুষের অবস্থান-সংক্রান্ত গোপনীয়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ধরা পড়ে যাবে।

পুরো ফোনের লোকেশন বন্ধ করে দেওয়া তুলনামূলক সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু তাতে দরকারি সুবিধাও বন্ধ হতে পারে। বরং যে অ্যাপ যতটুকু অবস্থানের অনুমতি ছাড়া কাজ করতে পারে না, তাকে ততটুকুই দেওয়া বেশি ব্যবহারিক।

আর একটি বিষয় মনে রাখুন: নতুন তথ্য সংরক্ষণ বন্ধ করা এবং পুরোনো তথ্য মুছে ফেলা দুটি আলাদা সিদ্ধান্ত। লোকেশন ট্র্যাকিং প্রাইভেসি ঠিক করার সময় এই পার্থক্যটিই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করলে কি গুগল ম্যাপস ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ। টাইমলাইন বা লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ থাকলেও গুগল ম্যাপস ব্যবহার করা যায়। তবে বর্তমান অবস্থান দেখানো, পথনির্দেশনা বা কাছাকাছি জায়গা খোঁজার মতো সুবিধার জন্য ফোন বা অ্যাপকে অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে।

গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে পুরোনো অবস্থানের তথ্য মুছে দিলে কি তা আবার ফিরে আসবে?

মুছে দেওয়া পুরোনো তথ্য নিজে থেকে ফিরে আসার কথা নয়। তবে টাইমলাইন বা সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের সেটিং চালু থাকলে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য আবার সংরক্ষিত হতে পারে। তাই পুরোনো তথ্য মুছে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কী সংরক্ষণ হবে, সেটিও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা দরকার।

কোনো অ্যাপকে আনুমানিক অবস্থান দিলে কি সেটি আমার সঠিক ঠিকানা জানতে পারবে?

আনুমানিক অবস্থান দেওয়া হলে অ্যাপ সাধারণত সুনির্দিষ্ট ডিভাইস-অবস্থান পায় না। তবে আইপি ঠিকানা, অ্যাকাউন্টে দেওয়া ঠিকানা বা অ্যাপকে দেওয়া অন্য তথ্য থেকে আপনার এলাকা সম্পর্কে অতিরিক্ত ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তাই শুধু একটি অনুমতির ওপর পুরো গোপনীয়তা নির্ভর করে না।

ভিপিএন ব্যবহার করলে কি লোকেশন ট্র্যাকিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়?

না। ভিপিএন আপনার দৃশ্যমান আইপি ঠিকানা ও সেই আইপি থেকে অনুমান করা এলাকা বদলাতে পারে, কিন্তু ফোনের জিপিএস, অ্যাপের লোকেশন অনুমতি, অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ বা অন্য ডিভাইস-সংকেত নিজে থেকে বন্ধ করে না। লোকেশন গোপনীয়তার জন্য এসব সেটিং আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

কোনো অ্যাপের লোকেশন অনুমতি বন্ধ করলে পরে আবার চালু করা যাবে?

হ্যাঁ। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ক্ষেত্রেই অ্যাপের লোকেশন অনুমতি পরে পরিবর্তন করা যায়। কোনো দরকারি সুবিধা কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের অনুমতি আবার চালু বা সীমিতভাবে দেওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ